Mosafir Travels Ltd.:: Umra, Hajj and Ticketing
মক্কা ও মদিনা জিয়ারত
১। জান্নাতুল মুআল্লা :

এটি মক্কার কবরস্থান। এ কবরস্থান যিয়ারত করা মোস্তাহাব। এখানে সাহাবী, তাবেয়ী ও বুযুর্গদের কবর রয়েছে। হযরত খাদীজা (রা:), হযরত আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের (রা:) এর কবরও এখানে রয়েছে।

২। রাসূল (সা:)-এর জন্মস্থান :-

এটি হারাম শরীফের পূর্ব দিকের চত্বরের পূর্বে অবস্থিত। বর্তমানে এটিকে একটি পাঠাগার বানিয়ে রাখা হয়েছে।
৩।জাবালে ছওর : এটি মক্কা শরীফ থেকে তিন মাইল দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত একটি  পাহাড়। হিজরতের সময় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা:) কে সহ তিন রাত এ পাহাড়ের চূড়ায় একটি গুহায় অবস্থান করেছিলেন। যে গুহাকে ‘গারে ছওর’ বলা হয়।

৪। জাবালে নুর:-

জাবালে নুর ও গারে হেরা :মক্কা শরীফ থেকে তিন মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি পাহাড়ের নাম  জাবালে নূর। এই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি গুহাকে বলা হয় ‘গারে হেরা’বা হেরা গুহা। নবুওয়াত লাভের পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই গুহায় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। এখানেই সর্বপ্রথম ওহী নাযেল হয়েছিল।

৫। মুযদালিফার ময়দান :-
 
এটি একটি ময়দান। এর এক প্রান্তে মসজিদে মাশআরুল হারাম রয়েছে। যাকে মুযদালিফার মসজিদ বলা হয়। মুয্দালিফা শব্দের অর্থ নিকটবর্তী বা রাতের অংশ।

৬। আরাফাত ময়দান :-
 
এখানে মসজিদে নামিরা রয়েছে। আরাফাত শব্দের অর্থ পরিচিতি। এক বর্ণনা মতে হযরত আদম ও হাওয়া (আ:) এর জান্নাত থেকে পৃথিবীতে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবতরণের পর এ ময়দানে দুজনের মধ্যে সাক্ষাত ও পরিচিতি ঘটেছিল বলে এ ময়দানকে আরাফার ময়দান বলা হয়। আর এক বর্ণনা মতে হযরত জিব্রাঈল (আ:) হযরত ইব্রাহীম (আ:) কে হজ্জের যাবতীয় বিষয় শিক্ষা দেয়ার পর এখানে এসে জিজ্ঞাসা করেছিলেন হজ্জ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ের পরিচিতি লাভ করেছেন কি? এ থেকেই এখানের নাম হয় আরাফাত।

৭। মিনা :-                                                    মসজিদে খায়েফ

এখানে মসজিদে খায়েফ রয়েছে, যাতে বহু নবী ইবাদত বন্দেগী করেছেন। বর্ণিত  আছে এখানে ৭০ জন নবীর কবর রয়েছে।

৮। মসজিদে জিন :-

এখানে জিনগণ হাজির হয়ে  কুরআন তিলাওয়াত শুনেছিল। আর এক বর্ণনা মতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম জিনদের প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাত করতে যাওয়ার সময় হযরত ইবনে মাসঊদ (রা:) কে এখানে রেখে যান।

৯। মসজিদে তানঈম/মসজিদে আয়েশা :-

হযরত  আয়েশা (রা:) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেধে উমরা করেছিলন। হাজীগণ সাধারণত : এখানে গিয়ে ইহরাম বেধে এসে উমরা করে থাকেন।

১০। মসজিদুর রায়াহ :

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় এখানে ঝান্ডা স্থাপন করেছিলেন।

১১। মুআবাদা :-
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্জে মিনা থেকে মক্কায় ফেরার পথে এখানে অবস্থান করেছিলেন।

১২। জাবলে আবী  কুবায়ছ :-
 
পাহাড়টি মসজিদে হারামের দক্ষিণ পূর্ব পাশে অবস্থিত, যার কিছু  অংশ কেটে পূর্বের চত্বরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আর অবশিষ্ট অংশের উপর  রাজপ্রাসাদ রয়েছে। হযরত নূহ (আ:) এর তুফানের সময় থেকে হাজরে আসওয়াদ এ পাহাড়ে উপর রাখা ছিল। প্রসিদ্ধ তাবিয়ী ‘মুজাহিদ’ এর বর্ণনা মতে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে পাহাড়ের মধ্যে সর্ব প্রথম এ পাহাড়টি সৃষ্টি করেন।

  মদিনা মুনাওয়ারা (যাতে সাওয়াব লাভ করা যায় রাসূল (সা:) -এর পদ্ধতিতে হলে)।
১। মাসজিদে নববী

মদিনা মুনাওয়ারায় যিয়ারতের আদবঃ
মদিনা সফরের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যিয়ারত ও মসজিদে নববীর যিয়ারত উভয়ের নিয়্যত করতে হবে। মদীনা মনোয়ারার দিকে সফরের সময় প্রবল আগ্রহ, ভালবাসা ও ভক্তি সহকারে রওয়ানা হওয়া উচিত এবং বেশী বেশী দরূদ ও ইস্তেগফার পড়তে হবে। মদীনা শরীফ দৃষ্টিগোচর হলে দুরূদ, সালাম এবং দুআ বেশী থেকে বেশী করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজা মুবারকের সবুজ গম্বুজ দৃষ্টি গোচর হলে মনে প্রবল ভক্তি ও শ্রদ্ধা জাগ্রত করা। মদীনায় প্রবেশের পর যতদ্রুত সম্ভব মসজিদে নববীতে গমন করা। মহিলাদের জন্য রাতে যিয়ারত করা উত্তম। মসজিদে নববীতে যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করা যায়। তবে বাবে জিব্রীল দিয়ে প্রবেশ করা উত্তম।
মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে ‘রিয়াজুল জান্নাহ’ নামক স্থানে পৌছে দু’রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাযআদায় করা (মাকরুহ ওয়াক্ত না হলে এবং জামাত ছুটে যাওয়ার আশংকা না থাকলে)। নামায দু’রাকাত সুরা কাফিরুন ও সুরা এখলাস দিয়ে পড়া উত্তম। কেননা,সুরা কাফিরুনে শেরেককে অস্বীকার করা হয় এবং সুরা এখলাসে তাওহীদকে স্বীকার করা হয়।
অতঃপর অত্যন্ত আদব ও তাযীমের সাথে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওযার সন্মুখে পৌঁছে ‘আচ্ছলাতু আসসালামুআলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ’, ‘আচ্ছলাতু আসসালামুআলাইকা ইয়া হাবিবাল্লাহ’…………. বলে সালাম পেশ করা। মনে রাখতে হবে রাসূলেকরীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম কালাম শোনেন। তাই সালামের আওয়াজ বেশী জোড়েও না এবং একেবারে চুপে চুপেও না। এমন আওয়াজে পড়তে হবে যেন উহা কবর শরীফ পর্যন্ত পৌছে যায়। তারপর অন্য কেহ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে সালাম পৌছাবার কথা বলে থাকলে তা এভাবে পৌছাতে হবে, হে আল্লাহর নবী! অমুকের পুত্র অমুকের (অমুকের স্থলে নাম বলতে হবে) তরফ হতে আপনার উপর সালাম। সে আপনার দরবারে আল্লাহ পাকের নিকট সুপারিশ চাচ্ছে। আল্লামা জারকানী লিখেছেন, কেউ যদি কারো নিকট সালাম পৌঁছাতে অনুরোধ করে এবং সে উহা কবুল করে, তবে তার সালাম পৌছানো ওয়াজেব হয়ে যায়। কেননা সে কবুল করেছে বিধায় এটা একটি আমানত হয়ে গেল।
এরপর পরযায়ক্রমে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) এবং হযরত ওমর (রাঃ) এর রওযার সন্মুখে তাঁদের চেহারা মুবারক বরাবর দাঁড়িয়েতাঁদেরকে সালাম করা। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওযার পর এক হাত ডানদিকে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর কবর এবং এর একহাত ডানে হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) এর কবর। হযরত আবু বকর (রাঃ) কে এ ভাবে সালাম করা যায়ঃ আসসালামু আলাইকা ইয়া খলিফাতা রসূলিল্লাহি আবা বাকারিন (রাঃ)। আর হযরত ওমর (রাঃ) কে এ ভাবে সালাম করা যায়ঃ আসসালামু আলাইকা ইয়া আমিরাল মু’মিনীন উমারাল ফারুকী (রাঃ)। তারপর আবার নবীকরীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মুবারকে সালাম পেশ করে তাঁর ওসীলা দিয়ে দুআ করা এবং শাফায়াতের দরখাস্ত করা। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দাঁড়িয়ে হাত উচিয়ে প্রথমে আল্লাহপাক যে এখানে এনেছেন তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করা ও প্রানভরে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দুরূদ পড়া। এরপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উছিলায় আল্লাহপাকের নিকট নিজের জন্য,মাতা-পিতা, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, আর যারা দুআর জন্য বলেছেন তাদের জন্য, সমস্ত জীবিত ও মৃত মুসলমানের জন্য খুব বেশী বেশী দুআ করা এবং আমীন বলে দুআ শেষ করা।
হানাফী মাজহাবের বিখ্যাত মুগনী গ্রন্থে এভাবে দুআ করার কথা উল্লেখ আছেঃহে আল্লাহ! তোমার পবিত্র ইরশাদ নিশ্চয়ই সত্য। তোমার ইরশাদঃ‘তারা যদি পাপ করে তোমার দরবারে হাজির হয় এবং তোমার নিকট ক্ষমা প্রর্থনা করে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য তোমার নিকট মাফ চায়, তবে তোমাকে নিশ্চয়ই তারা তওবা কবুলকারী ও দয়ালু পাবে’। এখন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে এসেছি এবং পরওয়ারদিগারের নিকট আমার গুনাহ মাফের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুপারিশ কামনা করছি। হে আল্লাহ! নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হায়াতে কেউ তাঁর নিকট এসে তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তুমি তাকে ক্ষমা করতে। তোমার কাছে আমার প্রার্থনা, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
আল্লামা কাস্তালানী (রহঃ) লিখেছেন, যিয়ারতকারীদের উচিত ক্ষমা প্রাপ্তির জন্য হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উসীলা ধরে আল্লাহর নিকট দুআ করা ও নবীজীর সুপারিশ তলব করা। সালামের পর এভাবে দুআ করার কথা বিভিন্ন কিতাবে আছেঃ হে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আপনার নিকট সুপারিশ চাই এবং দুআ করি যেন আমার মৃত্যু হয় আপনার দ্বীনের উপর এবং আপনার সুন্নতের উপর। সুযোগ হলেই প্রতি দিন এভাবে রওযামুবারক যিয়ারত করা চাই।
নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুজরা (যেখানে নবীজির রওজা মুবারক অবস্থিত) এবং মিম্বরের মধ্যবরতী স্থানটি রিয়াযুল জান্নাহ বা বেহেস্তের বাগান বলে পরিচিত। এ স্থানটির বিশেষ ফযীলত রয়েছে। এখানে বেশী বেশী নফল নামায পড়া এবং ক্বুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা উত্তম।
‘রিয়াযুল জান্নাত’ নামক স্থানের মধ্যে ৮ টি স্তম্ভ আছে। এ গুলোকে রহমতের স্তম্ভ বলা হয়। মাকরুহ ওয়াক্ত না হলে এবং কাউকে কষ্ট না দিয়ে সম্ভব হলে প্রত্যেকটা স্তম্ভের পার্শ্বে নফল নামায পড়া। স্তম্ভসমূহ হছেঃ উস্তুওয়ানা হান্নানাহ, উস্তুওয়ানা ছারীয়, উস্তুওয়ানা উফুদ, উস্তুওয়ানা হারছ, উস্তুওয়ানা আয়েশা (রাঃ), উস্তুওয়ানা আবু লুবাবা (রাঃ), উস্তুওয়ানা জিব্রীল (আঃ) এবং উস্তুওয়ানা তাহাজ্জুদ।
অতঃপর পুনঃরায় রওযার মধ্যে গিয়া নফল নামায পড়া এবং দুআ ও দুরূদে মশগুল থাকা। তারপর মিম্বরের নিকট রোম্মানায় হাত রেখে দুআ করা(মিম্বরের কিনারায় আনারের মতো মুকুটসমূহকে রোম্মানা বলা হয়)। তারপর উস্তুওয়ানায়ে হান্নানাহ এর নিকট এহতেমামের সহিত দুরূদ পড়া ও দুআ করা এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ স্তম্ভসমূহের নিকট গিয়া দুআ করা।
অন্যান্য করণীয় বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে। মদিনা আল্ মনোয়ারায় থাকা কালীন মসজিদে নববীতে জামাতের সহিদ নামায পড়া। যেন এক ওয়াক্তও ছুটে না যায় সে দিকে খেয়াল রাখা। শক্ত ওজর ব্যতীত রওযার দিকে কখন পিঠ না দেয়া। হুজুর সাল্লাল্ললাহু আলাইইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের সামনে দিয়ে যাবার সময় চাই মসজিদের ভিতরে হোক বা বাহিরে হোক দাঁড়িয়ে সালাম করে সম্মুখে অগ্রসর হওয়া। মদীনা মুনাওয়ারায় থাকাকালীন অবস্থায় হুজুর সাল্লাল্ললাহু আলাইইহি ওয়াসাল্লাম এর কবর শরীফে বেশী বেশী হাজির হয়ার চেষ্টা করা। মসজিদে নববীতে থাকাকালীন হুজরা শরীফের দিকে এবং মসজিদের বাহিরে থাকা কালীন সময় কোব্বাশরীফের যেখান পর্যন্ত নযরে আসে খুব মহব্বত ও আবেগের সাথে দেখা। মদীনা মুনাওয়ারায় থাকাকালীন যত বেশী বেশী সম্ভব মসজিদে নববীতে থেকে জিকির, তেলওয়াত এবং দুরূদশরীফে লিপ্ত থাকা।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এর কবরশরীফ যিয়ারতের পর প্রতিদিন বা প্রতি জুম্মার দিন জান্নাতুল বাকিতে যাওয়া। কেননা সেখানে হযরত ওসমান, হযরত আব্বাস, হযরত হাসান, হযরত ইব্রাহীম এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবি ছাহেবান এবং বহু সংখ্যক সাহাবা (রাঃ) শুয়ে আছেন। জান্নাতুল বাকিতে সর্ব প্রথম হযরত উসমান এবং সর্বশেষ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফুফু হযরত ছফিয়া (রাঃ) এর কবরশরীফ যিয়ারত করা। অহুদে শহীদান যিয়ারত করা। মসজিদে কোবা যিয়ারত করা এবং সেখানে নামায পড়া। তারপর মদীনা মুনাওয়ারার অন্যান্য মুবারক স্থানসমূহের যিয়ারত করা। মদীনাবাসীদের সাহিত সদ্ব্যবহার করা। কেননা তাঁরা প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এর প্রতিবেশী। মদীনাবাসীদের সাহিত মহব্বত রাখা ওয়াজিব।
এছাড়াও অন্যান্য করণীয়র মধ্যে রয়েছে, মদীনাবাসীদের উপর অকাতরে দান-খয়রাত করা। মদীনাওয়ালাদের উপর ছদকা করার চেয়ে হাদিয়া দেয়ার নিয়ত করা উত্তম। মদীনায় অবস্থান কালে সব সময় মদীনার আজমত ও বুজুরগী অন্তরে হাজির রাখা। অতঃপর ছরওয়ারে কায়েনাত হুজুর (সাঃ) এর রওজা মুবারক এবং মদীনার পবিত্র স্থানসমূহ যিয়ারত শেষ করার পর ফিরে আসার পূর্বে মসজিদে নববীতে দু’রাকাআত বিদায়ী নফল নামায আদায় করা। নামায রওজাতে পড়াই উত্তম। তারপর কবরশরীফে শেষ সালাম পৌঁছাবার জন্য হাজির হওয়া। দুরূদ ও সালাম পৌঁছিয়ে নিজের যাবতীয় নেক মনোবাসনা পূর্ন হবার জন্য, হজ্জ ও জিয়ারত মকবুল হওয়ার জন্য, ছহী ছালামতে ফেরার জন্য এবং খাছ করে এ হাজিরী যেন আখিরী হাজিরী না হয়, সে জন্য দুআ করা। কান্না না আসলে কান্নার মত ভান করে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আফছুছ করতে করতে মসজিদ হতে বের হওয়া এবং যতটুকু সম্ভব সদকা-খয়রাত করা(ফাজায়েলে হজ্ব, আহকামে জিন্দেগী)।
মদীনা শারীফে দু’আ কবুলের স্থানসমমূহঃ
১। মসজিদে নববী, ২। রিয়াযুল জান্নাহ, ৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিম্বর শরীফ, ৪। উস্তুওয়াণে তাওবা, ৫। আসহাবে সুফফা, ৬। মসজিদে কুবা, ৭। মসজিদে জুম’আ, ৮। মসজিদে গামামা, ৯। মসজিদে সুকইয়া, ১০। মসজিদে যুল কিবলাতায়ন, ১১। মসজিদে আহযাব, ১২। মসজিদে আবু বকর, ১৩। মসজিদে আলী, ১৪। মসজিদে বনী জা’ফর, ১৫। মসজিদে যোবাব, ১৬। মসজিদে বনী হারাম, ১৭। মসজিদে ইযাবা, ১৮। ময়দানে উহুদ, এবং ১৯। জান্নাতুল বাকী।
পরিশেষে, মদীনা আল মুনাওয়রায় বারবার গিয়া মসজিদে নববী এবং রওজায়ে আতাহার যিয়ারত করার তৌফিক আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর নিকট চাই এবং আল্লাহর মহান দরবারে প্রার্থনা করি, হে আল্লাহ! তোমার মাহবুবের হারামকে আমাদের সকলের জন্য মউত, কবর, হাসর, মিজান, পুলসিরাত এবং জাহান্নামের আজাব হতে বাঁচার উছিলা বানিয়ে দাও, হিসাবের দুরাবস্থা হতে বাঁচার উপায় করে দাও! আমিন!

২। রিয়াযুল জান্নাহ:-


৩। মসজিদে নববীতে সাতটি  উস্তুওয়ানা বা স্তম্ভ - উস্তুওয়ানা হান্নানাহ, উস্তুওয়ানা ছারীর,  উস্তুওয়ানা উফূদ, উস্তুওয়ানা হারেচ, উস্তুওয়ানা আয়েশা, উস্তুওয়ানা আবূ    লুবাবা (রা:), উস্তুওয়ানা জিব্রীল (আ:)

৪। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু   আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবু বকর ও উমর(রা:)-এর রওজা:-


৫। কুবা মাসজিদ:-

রাসূলুল্লাহ (সা:) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের পর সর্বপ্রথম এই মাসজিদটি  নির্মাণ করেন যা মাসজিদে নববী হতে ৩ কি:মি: দক্ষিণে অবস্থিত। বাসা (নিজ নিজ  অবস্থানস্থল) থেকে ওযু করে এসে এখানে ২ রাক’আত সালাত আদায় করলে একটি উমরা  করার সমপরিমাণ সাওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা:) প্রতি শনিবার পাঁয়ে হেঁটে ও আরোহণ করে কুবায় আসতেন এবং দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। (বু: ১১৯৪,মু: ৩৩৭৬)।
১১৯১. নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাযি.) দু’ দিন ছাড়া অন্য
সময়ে চাশ্তের সালাত আদায় করতেন না, যে দিন তিনি মক্কা্য় আগমন করতেন। তাঁর
অভ্যাস ছিল যে, তিনি চাশ্তের সময় মক্কা্য় আগমন করতেন। তিনি বাইতুল্লাহ্
ত্বওয়াফ করার পর মাকামে ইব্রাহীম-এর পিছনে দাঁড়িয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায়
করতেন। আর যে দিন তিনি কুবা মসজিদে গমন করতেন। তিনি প্রতি শনিবার সেখানে
গমন করতেন এবং সেখানে সালাত আদায় না করে বেরিয়ে আসা অপছন্দ করতেন। নাফি‘
(রহ.) বলেন, তিনি (ইবনু ‘উমার (রাযি.) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, আল্লাহর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবা মাসজিদ যিয়ারাত করতেন- কখনো
সওয়ারীতে, কখনো পদব্রজে। (১১৯৩, ১১৯৪, ৭৩২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১১৪,
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১১৮)
১১৯২. নাফি‘ (রহ.